বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অবৈধ স্কুলে ৫ গুণ পরীক্ষার ফি, অধিদপ্তর-বোর্ড নির্বিকার!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ, ২০২১, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

অবৈধ স্কুলে ৫ গুণ পরীক্ষার ফি, অধিদপ্তর-বোর্ড নির্বিকার!
সময় নিউজ বিডি:
করোনা অতিমারির মধ্যেই চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে জনপ্রতি ফি ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অথচ সরকার নির্ধারিত ফি এক হাজার ৮৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৯৭০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে চলতি বছর রাজধানীর ঢাকা উদ্যান ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের ৬৫ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করছে কর্র্তৃপক্ষ।
একই অবস্থা ঢাকা উদ্যান এলাকায় অবস্থিত ১০-১২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। ঢাকা উদ্যান ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, তুরাগ ন্যাশনাল হাইস্কুল ও ম্যানচেস্টার হাইস্কুলসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব বিদ্যালয়ে ৭-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে ১ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ইতিমধ্যে টাকা আদায় শুরু করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে দরিদ্র অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, করোনাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া কোনো নিয়মেরই ধার ধারছে না এসব বিদ্যালয়। করোনায় সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও এখানে প্রকাশ্যে ক্লাস ও কোচিং চলছে। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মাসিক বেতন।

কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ পাওয়ার পর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান পাবলিক হাইস্কুলের হিসাবরক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জানতে চাওয়া হয় পরীক্ষার ফি কত? তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা ফি। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে মামুন বলেন, ‘আমরা তো কম নিতাছি, এখানকার অন্য স্কুলগুলাতে খোঁজ নেন, তারা ১২-১৪ হাজার টাকাও নিতাছে।’

বিদ্যালয়রটির প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার হাওলাদারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মামুন বলেন, ‘স্যার সাংবাদিক আইছে, পরীক্ষার ফি বেশি নিতাছি এটা ধরছে।  চোটপাট দেখিয়ে কথা বন্ধ করেন বাশার হাওলাদার।

জানা যায়, ঢাকা উদ্যান এলাকার প্রেসিডেন্সি হাইস্কুল ও ঢাকা উদ্যান পাবলিক হাইস্কুল এই দুটি বিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন আছে। তবে পাবলিক হাইস্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদানের অনুমোদন নেই। বাকি বিদ্যালয়গুলো মোটের ওপর অনুমোদনহীন। ফলে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা মান্য করে না। পরীক্ষার ফি ও মাসিক ফিসহ অন্যান্য ফি আদায় করা হয় ইচ্ছেমাফিক। একমাত্র প্রেসিডেন্সি হাইস্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদানের অনুমোদন থাকায় অন্য বিদ্যালয়গুলো প্রেসিডেন্সি হাইস্কুলের নিবন্ধনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্সি হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিজওয়ানা খাতুন বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ দুই বছরে আমরা একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিই। কিন্তু তারা আদায় করে ১০-১২ টাকা পর্যন্ত। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ফি আদায় শুরুর কথা ১ তারিখ থেকে। অথচ অনেকে কয়েকদিন আগ থেকে শুরু করেছে। এসব বিদ্যালয়ে অনিয়মের শেষ নেই। তারা ক্লাস পর্যন্ত করাচ্ছে। মাসিক ফিও আদায় করছে।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা উদ্যান এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষদের বসবাস। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অংশই দিনমজুর পরিবারের সন্তান। বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, করোনার শুরুতে প্রথম কয়েক মাস মাসিক বেতন নেওয়া বন্ধ রাখলেও পরে বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ চাপ দেওয়া শুরু করে। বিদ্যালয়গুলোতে মাসিক বেতন ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা অবস্থায় মাসিক বেতন আদায় না করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। তবে সেটি না মেনে জিম্মি করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

ঢাকা উদ্যান ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে   বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করছি। বাপ-মা টাকা দিতে পারে না। স্কুলের চাপে আমার পরিবারের দিশেহারা অবস্থা।’

ঢাকা উদ্যান পাবলিক হাইস্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার হতদরিদ্রের সংসার। শুনতাছি ১০ হাজার ট্যাকা পরীক্ষার ফিস লাগব। ঘরভাড়া, খাওয়ার ট্যাকা জোগাড় করতে ঘাম ছুইট্যা যাইতাছে, ক্যামনে এই ট্যাকা জোগাড় করমু!’

অবৈধ সব বিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা উদ্যানের দুটি স্কুল ছাড়া সবগুলোই অনুমোদনহীন। ফলে তারা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

অতিরিক্ত ফি আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম। কালই (আজ রবিবার) পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আব্দুল মনছুর ভুঁইয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সব বিদ্যালয়কে জানিয়েছি।’

করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবশেষ আগামী ৩০ মার্চ খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের জুনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা জুলাই-আগস্ট মাসে হওয়ার কথা রয়েছে।

Share Button




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রধান উপদেষ্টাঃ শাহজাদা পারভেজ টিনু।
আইন উপদেষ্টাঃ এ্যাড আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
(জজকোর্ড ঢাকা)
সম্পাদক ও প্রকাশক: এইচ এম মোহিবুল্লাহ (মোহিব)
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো: মোস্তাফিজুর রহমান।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: নূর-ই আলম আজাদ।
যুগ্ন সম্পাদকঃ আমিনুর রহমান রুবেল ও এস এম আমিনুল ইসলাম।
সাহিত্য সম্পাদকঃ খলিলুর রহমান তাং ও ইউসুফ আলী তাং।
বার্তা সম্পাদক : মো: নূর হোসেন।

অফিসঃ
ঢাকাঃ সুলতান টাওয়ার (৩য় তলা) টংঙ্গী বাজার, গাজিপুর, ঢাকা।
বরিশালঃ ১০ নং ওয়ার্ড, বাঁধ রোড,ষ্টীমার ঘাট মার্কেট (৩য় তলা)
কলাপাড়াঃ মমতা মার্কেট,বাদুড় তলী সূইজগেট,কলাপাড়া,পটুয়াখালী।
E-mail: somoynewskp@gmail.com
মোবাইলঃ 01721987722

Design & Developed by
  গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন শেষ হচ্ছে আজ   কোয়ারেন্টিন শেষে আজ অনুশীলন শুরু টাইগারদের   মিসরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত কমপক্ষে ২১   আবদুল মতিন খসরুর দাফন হবে পারিবারিক কবরস্থানে   আজ ব্যাংক খোলা   লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার রাস্তায় লোক চলাচল বেড়েছে   বাগেরহাটে ফোন কোরলেই বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা।   লক্ষ্মীপুরে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় মেশিনে কাঁটা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু   ময়মনসিংহ জয়নুল আবেদীন পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদীতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু।   চাঁদপুরে হিউম্যান রাইটস এক্টিভিটিস ফাউন্ডেশন আহ্বায়ক বেলায়েত;সচিব অমরেশ দত্ত   মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভোলা জেলা পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।   ১২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে রাসেলের রেকর্ড   টিএসসির নববর্ষের উৎসবের ৭ লাঞ্ছনাকারী এখনো অধরা   বৈশাখে গুগলের বিশেষ ডুডল   আজ পহেলা বৈশাখ   হেফাজতের সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহ গ্রেফতার   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চান রেসলার ‘দ্য রক’!   প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঢাবিতে বর্ষবরণ   আজ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ   মোংলা বন্দর কতৃপক্ষ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমসহ সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।